যেদিন আমি হারিয়ে যাব, বুঝবে সেদিন বুঝবে, অস্তপারের সন্ধ্যাতারায় আমার খবর পুছবে -
Showing posts with label রুবাইয়াত. Show all posts
Showing posts with label রুবাইয়াত. Show all posts

Wednesday, 16 March 2011

রুবাইয়াত-ই- হাফিজ- ৮

তোমার পথে মোর চেয়ে কেউ,
সর্বহারা নাই কো, প্রিয়!
আমার চেয়ে তোমার কাছে,
নাই সখি, কেউ অনাত্নীয়!
তোমার বেণীর শৃংখলে গো
নিত্য আমি বন্দী কেন?
মোর চেয়ে কেউ হয়নি পাগল,
পিয়ে তোমার প্রেম- অমিয়!!

রুবাইয়াত-ই- হাফিজ- ৭

আমার সকল ধ্যানে জ্ঞানে,
বিচিত্র সে সুরে সুরে
গাহি তোমার বন্দনা গান,
রাজাধিরাজ, নিখিল জুড়ে!
কী বলেছে তোমার কাছে
মিথ্যা ক'রে আমার নামে
হিংসুকেরা,- ডাকলে না আজ,
তাইতে আমায় তোমার পুরে!!

রুবাইয়াত-ই- হাফিজ- ৬

রবি, শশী, জ্যোতিষ্ক সব,
বান্দা তোমার, জ্যোতির্মতি!
যেদিন হ'তে বান্দা হ'ল
পেল আঁধার -হরা জ্যোতি!
রাগে- অনুরাগে মেশা
তোমার রুপের রৌশনীতে
চন্দ্র হ'ল স্নিগ্ধ-কিরণ,
সূর্য হল দীপ্ত অতি!!

রুবাইয়াত-ই- হাফিজ- ৫

তারি আমি বান্দা গোলাম,
সৌখিন যে রস- পিয়াসী।
গলায় যাহার দোলায় বিধি
পাগল প্রেমের শিকলি ফাঁসি!
প্রেমের এবং প্রেম জানানোর
স্বাদ অ-রসিক বুঝবে কিসে?
পান করে এ সুরার ধারা,
সুর- লোকের রুপ- বিলাসী!!

রুবাইয়াত-ই- হাফিজ- ৪

চন্দ্র- সূর্য রাত্রি দিবা
বিচিত্র সে আবেগ ভরে
ওগো প্রিয়, দেখি- তোমার
ধূলির 'পরে প্রণাম করে!
হৃদয় আঁখির সাধ হতে মোর
করো না গো নিরাশ মোরে,
রইবে ন্দূরে- বসিয়ে আমায়,
প্রতীক্ষার ঐ অগ্নি পরে?

রুবাইয়াত-ই- হাফিজ- ৩

পরান ভরে পিয়ে শরাব,
জীবন যাহা চিরকালের।
মৃত্যু-জরা-ভরা জগৎ
ফিরে কেহ আসবেনা ফের।
ফুলের বাহার, গোলাব- কপোল,
গেলাস- সাথী মস্ত-ইয়ার,
এক লহমার খুশির তুফান,
এইতো জীবন!- ভাবনা কিসের!!

রুবাইয়াত-ই- হাফিজ- ২

তোমার হাতের সকল কাজে
হবে শুভ নিরবধি-
প্রিয়, তোমার ভাগ্যবশে
নিয়তির এই নির্দেশ যদি;
দাও তাহলে পান করে নিই
তোমার দেওয়া শিরীন শরাব,
হ'লেও হব চির-অমর,
হয়ত ও-মদ সুধা-নদী!!

রুবাইয়াত-ই- হাফিজ- ১

হায় রে, আমার এ বদনসিব
হ'ত যদি মনের মত!
কিংবা গ্রহের চক্র ঘুরে
আবার আমার বন্ধু হত!
পালিয়ে যেত যৌবন মোর
যখন হাতের মুঠি হ'তে,
রেকাব সম রাখত ধ'রে
এই জরারে সমুন্নত!!

রুবাইয়াত- ১৯

কারুর প্রানে দুখ দিওনা, করো বরং হাজার পাপ,
পরের মনের শাস্তি নাশি বাড়িও না তার মনস্তাপ।
আমর আশিস লাভের আশা রয় যদি, হে বন্ধু মোর,
আপনি সয়ে ব্যথা, মুছো পরের বুকের ব্যথার ছাপ।

রুবাইয়াত- ১৮

সবকে পারি ফাঁকি দিতে মনকে পারি ঠারতে চোখ,
খোদার উপর খোদকারিতে ব্যর্থ হয় এ মিছে স্তোক।
তীক্ষ্ণ সূক্ষ্ণ বুদ্ধি দিয়ে জাল বুনিলাম চাতুর্যের,
মুহূর্তে তা দিল ছিঁড়ে হিংস্র নিয়তির সে নখ।

রুবাইয়াত- ১৭

ভালো করেই জানি আমি, আছে এক রহস্য লোক,
যায় না বলা সকলকে তা ভালোই হোক কি মন্দ হোক।
আমার কথা ধোঁয়ায় ভরা, ভাংতে তবু পারবো না-
থাকি সে কোন গোপন- লোকে, দেখতে যাহা পায় না চোখ।

রুবাইয়াত- ১৬

তত্ত্ব- গুরু খৈয়ামেরে পৌঁছে দিও মোর আশিস
ওর মত লোক বুঝল কিনা উলটো করে মোর হদিস!
কথায় আমি বলেছি, যে, সবার তরেই মদ হারাম?
জ্ঞানীর তরে অমৃত এ, বোকার তরে উহাই বিষ।

রুবাইয়াত- ১৫

খৈয়াম! তুই কাঁদিস কেন পাপের ভয়ে অযথা?
দুঃখ করে কেঁদে কি তোর ভরবে প্রান শূন্যতা?
জীবনে যে করল না পাপ নাই দাবি তার তাঁর দয়ায়
পাপীর তরে দয়ার সৃষ্টি, আনন্দ কর ভোল ব্যথা।

রুবাইয়াত- ১৪

দাস হয়োনা মাৎসর্যের, হয়ো না কো অর্থ-যখ,
ঘাড়ে যেন ভর করে না ঠুঙ্কো যশোখ্যাতির সখ,
অগ্নি-সম প্রদীপ্ত হও, বন্যা- সম প্রানেদ্বেল,
হয়ো না কো পথের ধূলি, হাওয়ার হাতের ক্রীড়নক!

রুবাইয়াত- ১৩

দরিদ্ররে যদি তুমি প্রাপ্য তাহার অংশ দাও,
প্রানে কারুর না দাও ব্যথা, মন্দ কারুর নাহি চাও,
তখন তুমি শাস্ত্র মেনে না-ই চললে তায় বা কি!
আমি তোমায় স্বরগ দিব, আপাতত শরাব নাও।

রুবাইয়াত- ১২

মার্কা- মারা রইস যত- ঈষৎ দুঃখের বোঝার ভার
বইতে যাঁরা পড়েন ভেঙ্গে, বিস্ময়ের নাই অন্ত আর,
তাঁরাই যখন দীন- দরিদ্রে দেখেন দ্বারে পাততে হাত
তাদের তখন চিনতে নারেন মানুষ বলে এই ধরার।

রুবাইয়াত- ১১

দুঃখে আমি মগ্ন প্রভু, দুয়ার খোলো করুণার!
আমায় করো তোমার জ্যোতি, অন্তর মোর অন্ধকার।
স্বর্গ যদি অর্জিতে হয় এতই পরিশ্রম করে-
সে ত আমার পারিশ্রমিক, নয় সে দয়ার দান তোমার।

রুবাইয়াত- ১০

তোমার দয়ার পেয়ালা প্রভু উপচে পড়ুক আমার'পর
নিত্য ক্ষুধার অন্ন পেতে না যেন হয় পাততে কর।
তোমার মদে মস্ত করো আমার 'আমি'র পাই সীমা,
দুঃখে যেন শির না দুখায় অতঃপ্র, হে দুঃখহর!

রুবাইয়াত- ৯

যদিও মদ নিষিদ্ধ ভাই, যত পার মদ চালাও,
তিনটি কথা স্মরণ রেখে; কাহার সাথে মদ্য খাও?
মদ- পানের কি যোগ্য তুমি? কি মদই বা করেছ পান?-
জ্ঞান পেকে না ঝুনো হলে মদ খেয়ো না এক ফোঁটাও।

রুবাইয়াত- ৮

অর্থ বিভব যায় উড়ে সব রিক্ত করে মোদের কর,
হৃদপিন্ড ছিঁড়ে মোদের মৃত্যুর নিষ্ঠুর নখর;
মৃত্যু- লোকের চোখ এড়িয়ে ফেরত কেহ আসলনা,
যে সব পথিক গেল সেথায় নিয়ে তাদের খোশ খবর।