যেদিন আমি হারিয়ে যাব, বুঝবে সেদিন বুঝবে, অস্তপারের সন্ধ্যাতারায় আমার খবর পুছবে -

Friday, 18 November 2011

নূরজাহান! নূরজাহান!

নূরজাহান! নূরজাহান!
সিন্ধু নদীতে ভেসে,
এলে মেঘলামতীর দেশে
ইরানী গুলিস্তান।।
নার্গিস লালা গোলাপ আঙ্গুর-লতা
শিরিঁ ফরহাঁদ সিরাজের উপকথা
এনেছিলে তুমি তনুর পেয়ালা ভরি’
বুলবুলি দিলরুবা রবাবের গান।।
তব প্রেমে উন্মাদ ভুলিল সেলিম,
সে যে রাজাধিরাজ-
চন্দন সম মাখিল অঙ্গে
কলঙ্ক লোক-লাজ।
যে কলঙ্ক লয়ে হাসে চাঁদ
নীল আকাশে,
যাহা লেখা থাকে শুধু
প্রেমিকের ইতিহাসে,
দিবে চিরদিন নন্দন-লোক-চারী
তব সেই কলঙ্ক
সে প্রেমের সম্মান।।

এই রাঙামাটির পথে লো

এই রাঙামাটির পথে লো
মাদল বাজে বাজে বাঁশের বাঁশি।
বাঁশি বাজে বুকের মাঝে লো
মন লাগে না কাজে লো
রইতে নারি ঘরে ওলো
প্রাণ হলো উদাসী লো ।।

মাদলীয়ার তালে তালে
অঙ্গ ওঠে দুলে লো ।
দোল লাগে শাল পিয়াল বনে
নতুন খোপার ফুলে লো
মহুয়া বনে লুটিয়ে পরে
মাতাল চাঁদের হাসি লো ।।
চোখে ভালো লাগে যাকে
তারে দেখবো পথের বাঁকে ।
তার চাচড় কেশে পড়িয়ে দেবো
ঝুমকো জবার ফুল
তার গলার মালার কুসুম কেড়ে
পড়বো কানের দুল ।
তার নাচের তালের ইশারাতে
বলবো ভালোবাসি লো ।।

Friday, 11 November 2011

আজো কাঁদে কাননে কোয়েলিয়া

আজো কাঁদে কাননে কোয়েলিয়া
চম্পা কুঞ্জে আজি গুঞ্জে ভ্রমরা-কুহরিছে পাপিয়া।
প্রেম-কুসুম শুকাইয়া গেল হায়!
প্রাণ-প্রদীপ মোর হের গো নিভিয়া যায়,
বিরহী এসে ফিরিয়া।
তোমারি পথ চাহি হে প্রিয় নিশিদিন
মালার ফুল মোর ধুলায় হ’ল মলিন
জনম গেল ঝুরিয়া।।

Thursday, 10 November 2011

রুমঝুম রুমুঝুম কে বাজায়

রুমঝুম রুমুঝুম কে বাজায়,
জল ঝুম্‌ঝুমি
চমকিয়া জাগে ঘুমন্ত বনভূমি।

দুরন্ত অরণ্যা গিরি-নির্ঝরিণী
রঙ্গে সঙ্গে লয়ে বনের হরিণী
শাখায় শাখায় ঘুম ভাঙ্গায়
ভীরু মুকুলের কপোল চুমি।

কুহু-কুহু কুহরে পাহাড়ী কুহু,
পিয়াল ডালে
পল্লব-বীণা বাজায় ঝিরিঝিরি সমীরণ,
তারি তালে তালে।

সেই জল-ছলছল সুরে জাগিয়া
সাড়া দেয় বন-পারে বাঁশী রাখালিয়া
পল্লীর প্রান্তর ওঠে শিহরি
বলে - ‘চঞ্চলা কে গো তুমি’?

Saturday, 5 November 2011

কাব্য-গীতির শ্রেষ্ঠ স্রষ্ঠা, দ্রষ্ঠা, ঋষি ও ধ্যানী

কাব্য-গীতির শ্রেষ্ঠ স্রষ্ঠা, দ্রষ্ঠা, ঋষি ও ধ্যানী
মহাকবি রবি অস্ত গিয়াছে!
বীণা, বেণুকা ও বাণী নীরব হইল।
ধুলির ধরণী জানিনা সে কত দিন
রস- যমুনার পরশ পাবেনা।
প্রকৃতি বাণীহীন মৌন বিষাদে কাঁদিবে ভুবনে ভবনে ও বনে একা;
রেখায় রেখায় রুপ দিবে আর কাহার ছন্দ লেখা?
অপ্রাকৃত মদনে মাধবী চাঁদের জ্যোৎস্না দিয়া
রূপায়িত রসায়িত করিবে কে লেখনী, তুলিকা নিয়া?

ব্যাস, বাল্মীকি,কালিদাস, খৈয়াম, হাফিজ ও রুমী
আরবের ইমরুল কায়েস যে ছিলে এক সাথে তুমি!
সকল দেশের সক্ল কালের সকল কবিরে ভাঙ্গি'
তাঁহাদের রুপে রসে রাঙ্গাইয়া, বুঝি কত যুগ জাগি'
তোমারে রচিল রসিক বিধাতা, অপরুপ সে বিলাস,
তব রুপে গুনে ছিল যে পরম সুন্দরের আভাস।

Friday, 14 October 2011

আমার গানের মালা আমি করবো কারে দান

আমার গানের মালা
আমি করব কারে দান
মালার ফুলে জড়িয়ে আছে
করুণ অভিমান
মালা করব কারে দান
চোখে মলিন কাজল রেখা
কন্ঠে কাঁদে কুহু কেকা
কপোলে যার অশ্রু রেখা
একা যাহার প্রান
শাঁখায় ছিল কাঁটার বেদন
মালায় শুচির জ্বালা
কন্ঠে দিতে সাহস না পাই
অভিশাপের মালা
বিরহে যার প্রেম- আরতি
আঁধার লোকের অরুন্ধতি
নাম না জানা সেই তপোতী
তার তরে এই গান
মালা করব তারে দান

যেদিন লব বিদায়

যেদিন লব বিদায় ধরা ছাড়ি পিয়ে
ধুয়ো লাশ আমার লাল পানি দিয়ে।
শরাবী জামসেদি গজল জানাজায় গাহিও আমার
দিবে গোর খুঁড়িয়া মাটি, খয়রাবি ওই শরাবখানায়।
রোজ কেয়ামতে তাজা উঠব জিয়ে।
এমনি পাব শরাব, ভেসে যাব তাহারি স্রোতে
উঠিবে খুশবু শরাবের আমার ওই গোরের পার হতে।
টলি পড়বে পথিক সে নেশায় ঝিমিয়ে।।