যেদিন আমি হারিয়ে যাব, বুঝবে সেদিন বুঝবে, অস্তপারের সন্ধ্যাতারায় আমার খবর পুছবে -

Friday, 18 November 2011

মোরা আর জনমে হংস মিথুন ছিলাম

মোরা আর জনমে হংস মিথুন ছিলাম
ছিলাম নদীর চরে
যুগলরুপে এসেছি গো আবার মাটির ঘরে ।

তমালতরু চাঁপা লতার মতো
জড়িয়ে কত জনম হল গত
সেই বাধনের চিহ্ন আজো জাগে
জাগে হিয়ার থরে থরে ।।
বাহুর ডোরে বেধে আজো ঘুমের ঘোরে যেন
ঝড়ের বন লতার মতো লুটিয়ে কাদ কেন?
বনের কপোত কপোতাক্ষীর তীরে
পাখায় পাখায় বাধা ছিলাম নীড়ে
চিরতরে হলো ছাড়াছাড়ি
নিঠুর ব্যাধের শরে ।।

আলগা কর গো খোঁপার বাধন

আলগা কর গো খোঁপার বাঁধন
দীল ওহি মেরা ফাস্ গেয়ি
বিনোদ বেনীর জরীণ ফিতায়
আন্ধা ইশক মেরা কস্ গেয়ি ।।

তোমার কেশের গন্ধে কখন
লুকায়ে আসিল লোভী আমার মন
বেহুশ হো কর গির পারি হাতমে
বাজু বান্দমে বস্ গেয়ি ।।
কানের দুলে প্রাণ রাখিলে বিধিয়া
আখঁ ফেরা দিয়া চোরি কার নিদিয়া
দেহের দেউরিতে বেড়াতে আসিয়া
আউর নেহি উয়ো ওয়াপাস গেয়ি ।।

প্রজাপতি প্রজাপতি

প্রজাপতি প্রজাপতি
কোথায় পেলে ভাই এমন রঙ্গীন পাখা
টুকটুকে লাল নীল ঝিলিমিলি আঁকাবাঁকা।।
তুমি টুলটুলে বন-ফুলে মধু খাও
মোর বন্ধু হয়ে সেই মধু দাও,
ওই পাখা দাও সোনালী-রূপালী পরাগ মাখা।।
মোর মন যেতে চায় না পাঠশালাতে
প্রজাপতি, তুমি নিয়ে যাও সাথী করে তোমার সাথে।
তুমি হাইয়ায় নেচে নেচে যাও
আর তোমার মত মোরে আনন্দ দাও,
এই জামা ভাল লাগে না দাও জামা ছবি-আঁকা।।

খেলিছে জলদেবী

খেলিছে জলদেবী সুনীল সাগর জলে
তরঙ্গ লহর তোলে লীলায়িত কুন্তলে।।
জল ছল ঊর্মী নূপুর শ্রোতনীরে বাজে সুমধুর
জল চঞ্চল ছল কাঁকন কেউর
ঝিনুকের মেখলা কটিতে দোলে।।
আনমনে খেলে চলে বালিকা
খুলে পড়ে মুকুতা মালিকা
হরষিত পারাবারে ঊর্মী জাগে
লাজে চাঁদ লুকালো গগন তলে।।

হারানো হিয়ার নিকুঞ্জ পথে

হারানো হিয়ার নিকুঞ্জ পথে
কুড়ায়ে ঝরা ফুল একেলা আমি
তুমি কেন হায় আসিলে হেথায়
সুখের স্বরগ হইতে নামি ।

চারিদিকে মোর উড়িছে কেবল
শুকানো পাতা মলীণ ফুলদ্বয়
বৃথাই সেথা হায় তব আঁখিজল
ছিটাও অবিরল দিবসযামী ।
এলে অবেলায় পথিক বেভুল
বিদিছে কাটা নাহি পাবে ফুল
কি দিয়ে বরণ করি ও চরণ
নিভিছে জীবন জীবনস্বামী ।

বসিয়া বিজনে কেন একা মনে

( মন-মিশ্র গজল কাহারবা)

বসিয়া বিজনে কেন একা মনে
পাণিয়া ভরণে চল লো গোরী
চল জলে চল কাদে বনতল
ডাকে ছল ছল জল লহরী ।।

দিন চলে যায় বলাকা পাখায়
বিহগের বুকে বিহগী লুকায়
কেদে চখা চখা মাগিছে বিদায়
বারোয়ার সুরে ঝুরে বাশরি ।।
সাঝ হেরে মুখ চাদ কুমুরে
ছায়াপথ সিথি রচি চিকুরে
নাচে ছায়া -নটি কানন-পুরে
দুলে রটপট লতা কবরী ।।
‌বেলা গেল বধু ডাকে ননদী
চ’লো জল নিতে যাবি লো যদি
কালো হয়ে আসে সুদূর নদী
নাগরিকা-সাজে সাজে নগরী ।।
মাঝি বাধে তরী সিনান-ঘাটে
ফিরিছে পথিক বিজন মাঠে
কারে ভেবে বেলা কাদিয়া কাটে
ভর আখি-জলে ঘট পাপড়ি ।।
ওগো বেদরদী ও রাঙা পায়ে
মালা হয়ে কে গো গেল জড়ায়ে
তব সাথে কবি পড়িল গায়ে
পায়ে রাখি তার না গলে পড়ি ।।

মুছাফির মোছ রে আঁখিজল

মুছাফির মোছ রে আঁখিজল
ফিরে চল আপনারে নিয়া
আপনি ফুটেছিল ফুল
গিয়াছে আপনি ঝরিয়া ।।

রে পাগল একি দুরাশা
জলে তুই বাঁধবি বাসা
মেটে না হেথায় পিয়াসা
হেথা নাই তৃষা দরিয়া।।
বরষায় ফুটল না বকুল
পউষে ফুটিবে কি সে ফুল
এদেশে ঝরে শুধু ফুল
নিরাশার কানন ধরিয়া ।।
রে কবি কতই দেয়ালি
জ্বালিলি তোর আলো জ্বালি
এলো না তোর বনমালী
আধার আজ তোরই দুনিয়া ।।