( মন-মিশ্র গজল কাহারবা)
বসিয়া বিজনে কেন একা মনে
পাণিয়া ভরণে চল লো গোরী
চল জলে চল কাদে বনতল
ডাকে ছল ছল জল লহরী ।।
দিন চলে যায় বলাকা পাখায়
বিহগের বুকে বিহগী লুকায়
কেদে চখা চখা মাগিছে বিদায়
বারোয়ার সুরে ঝুরে বাশরি ।।
সাঝ হেরে মুখ চাদ কুমুরে
ছায়াপথ সিথি রচি চিকুরে
নাচে ছায়া -নটি কানন-পুরে
দুলে রটপট লতা কবরী ।।
বেলা গেল বধু ডাকে ননদী
চ’লো জল নিতে যাবি লো যদি
কালো হয়ে আসে সুদূর নদী
নাগরিকা-সাজে সাজে নগরী ।।
মাঝি বাধে তরী সিনান-ঘাটে
ফিরিছে পথিক বিজন মাঠে
কারে ভেবে বেলা কাদিয়া কাটে
ভর আখি-জলে ঘট পাপড়ি ।।
ওগো বেদরদী ও রাঙা পায়ে
মালা হয়ে কে গো গেল জড়ায়ে
তব সাথে কবি পড়িল গায়ে
পায়ে রাখি তার না গলে পড়ি ।।
Friday, 18 November 2011
মুছাফির মোছ রে আঁখিজল
মুছাফির মোছ রে আঁখিজল
ফিরে চল আপনারে নিয়া
আপনি ফুটেছিল ফুল
গিয়াছে আপনি ঝরিয়া ।।
রে পাগল একি দুরাশা
জলে তুই বাঁধবি বাসা
মেটে না হেথায় পিয়াসা
হেথা নাই তৃষা দরিয়া।।
বরষায় ফুটল না বকুল
পউষে ফুটিবে কি সে ফুল
এদেশে ঝরে শুধু ফুল
নিরাশার কানন ধরিয়া ।।
রে কবি কতই দেয়ালি
জ্বালিলি তোর আলো জ্বালি
এলো না তোর বনমালী
আধার আজ তোরই দুনিয়া ।।
ফিরে চল আপনারে নিয়া
আপনি ফুটেছিল ফুল
গিয়াছে আপনি ঝরিয়া ।।
রে পাগল একি দুরাশা
জলে তুই বাঁধবি বাসা
মেটে না হেথায় পিয়াসা
হেথা নাই তৃষা দরিয়া।।
বরষায় ফুটল না বকুল
পউষে ফুটিবে কি সে ফুল
এদেশে ঝরে শুধু ফুল
নিরাশার কানন ধরিয়া ।।
রে কবি কতই দেয়ালি
জ্বালিলি তোর আলো জ্বালি
এলো না তোর বনমালী
আধার আজ তোরই দুনিয়া ।।
নূরজাহান! নূরজাহান!
নূরজাহান! নূরজাহান!
সিন্ধু নদীতে ভেসে,
এলে মেঘলামতীর দেশে
ইরানী গুলিস্তান।।
নার্গিস লালা গোলাপ আঙ্গুর-লতা
শিরিঁ ফরহাঁদ সিরাজের উপকথা
এনেছিলে তুমি তনুর পেয়ালা ভরি’
বুলবুলি দিলরুবা রবাবের গান।।
তব প্রেমে উন্মাদ ভুলিল সেলিম,
সে যে রাজাধিরাজ-
চন্দন সম মাখিল অঙ্গে
কলঙ্ক লোক-লাজ।
যে কলঙ্ক লয়ে হাসে চাঁদ
নীল আকাশে,
যাহা লেখা থাকে শুধু
প্রেমিকের ইতিহাসে,
দিবে চিরদিন নন্দন-লোক-চারী
তব সেই কলঙ্ক
সে প্রেমের সম্মান।।
সিন্ধু নদীতে ভেসে,
এলে মেঘলামতীর দেশে
ইরানী গুলিস্তান।।
নার্গিস লালা গোলাপ আঙ্গুর-লতা
শিরিঁ ফরহাঁদ সিরাজের উপকথা
এনেছিলে তুমি তনুর পেয়ালা ভরি’
বুলবুলি দিলরুবা রবাবের গান।।
তব প্রেমে উন্মাদ ভুলিল সেলিম,
সে যে রাজাধিরাজ-
চন্দন সম মাখিল অঙ্গে
কলঙ্ক লোক-লাজ।
যে কলঙ্ক লয়ে হাসে চাঁদ
নীল আকাশে,
যাহা লেখা থাকে শুধু
প্রেমিকের ইতিহাসে,
দিবে চিরদিন নন্দন-লোক-চারী
তব সেই কলঙ্ক
সে প্রেমের সম্মান।।
এই রাঙামাটির পথে লো
এই রাঙামাটির পথে লো
মাদল বাজে বাজে বাঁশের বাঁশি।
বাঁশি বাজে বুকের মাঝে লো
মন লাগে না কাজে লো
রইতে নারি ঘরে ওলো
প্রাণ হলো উদাসী লো ।।
মাদলীয়ার তালে তালে
অঙ্গ ওঠে দুলে লো ।
দোল লাগে শাল পিয়াল বনে
নতুন খোপার ফুলে লো
মহুয়া বনে লুটিয়ে পরে
মাতাল চাঁদের হাসি লো ।।
চোখে ভালো লাগে যাকে
তারে দেখবো পথের বাঁকে ।
তার চাচড় কেশে পড়িয়ে দেবো
ঝুমকো জবার ফুল
তার গলার মালার কুসুম কেড়ে
পড়বো কানের দুল ।
তার নাচের তালের ইশারাতে
বলবো ভালোবাসি লো ।।
মাদল বাজে বাজে বাঁশের বাঁশি।
বাঁশি বাজে বুকের মাঝে লো
মন লাগে না কাজে লো
রইতে নারি ঘরে ওলো
প্রাণ হলো উদাসী লো ।।
মাদলীয়ার তালে তালে
অঙ্গ ওঠে দুলে লো ।
দোল লাগে শাল পিয়াল বনে
নতুন খোপার ফুলে লো
মহুয়া বনে লুটিয়ে পরে
মাতাল চাঁদের হাসি লো ।।
চোখে ভালো লাগে যাকে
তারে দেখবো পথের বাঁকে ।
তার চাচড় কেশে পড়িয়ে দেবো
ঝুমকো জবার ফুল
তার গলার মালার কুসুম কেড়ে
পড়বো কানের দুল ।
তার নাচের তালের ইশারাতে
বলবো ভালোবাসি লো ।।
Friday, 11 November 2011
আজো কাঁদে কাননে কোয়েলিয়া
আজো কাঁদে কাননে কোয়েলিয়া
চম্পা কুঞ্জে আজি গুঞ্জে ভ্রমরা-কুহরিছে পাপিয়া।
প্রেম-কুসুম শুকাইয়া গেল হায়!
প্রাণ-প্রদীপ মোর হের গো নিভিয়া যায়,
বিরহী এসে ফিরিয়া।
তোমারি পথ চাহি হে প্রিয় নিশিদিন
মালার ফুল মোর ধুলায় হ’ল মলিন
জনম গেল ঝুরিয়া।।
চম্পা কুঞ্জে আজি গুঞ্জে ভ্রমরা-কুহরিছে পাপিয়া।
প্রেম-কুসুম শুকাইয়া গেল হায়!
প্রাণ-প্রদীপ মোর হের গো নিভিয়া যায়,
বিরহী এসে ফিরিয়া।
তোমারি পথ চাহি হে প্রিয় নিশিদিন
মালার ফুল মোর ধুলায় হ’ল মলিন
জনম গেল ঝুরিয়া।।
Thursday, 10 November 2011
রুমঝুম রুমুঝুম কে বাজায়
রুমঝুম রুমুঝুম কে বাজায়,
জল ঝুম্ঝুমি
চমকিয়া জাগে ঘুমন্ত বনভূমি।
দুরন্ত অরণ্যা গিরি-নির্ঝরিণী
রঙ্গে সঙ্গে লয়ে বনের হরিণী
শাখায় শাখায় ঘুম ভাঙ্গায়
ভীরু মুকুলের কপোল চুমি।
কুহু-কুহু কুহরে পাহাড়ী কুহু,
পিয়াল ডালে
পল্লব-বীণা বাজায় ঝিরিঝিরি সমীরণ,
তারি তালে তালে।
সেই জল-ছলছল সুরে জাগিয়া
সাড়া দেয় বন-পারে বাঁশী রাখালিয়া
পল্লীর প্রান্তর ওঠে শিহরি
বলে - ‘চঞ্চলা কে গো তুমি’?
জল ঝুম্ঝুমি
চমকিয়া জাগে ঘুমন্ত বনভূমি।
দুরন্ত অরণ্যা গিরি-নির্ঝরিণী
রঙ্গে সঙ্গে লয়ে বনের হরিণী
শাখায় শাখায় ঘুম ভাঙ্গায়
ভীরু মুকুলের কপোল চুমি।
কুহু-কুহু কুহরে পাহাড়ী কুহু,
পিয়াল ডালে
পল্লব-বীণা বাজায় ঝিরিঝিরি সমীরণ,
তারি তালে তালে।
সেই জল-ছলছল সুরে জাগিয়া
সাড়া দেয় বন-পারে বাঁশী রাখালিয়া
পল্লীর প্রান্তর ওঠে শিহরি
বলে - ‘চঞ্চলা কে গো তুমি’?
Saturday, 5 November 2011
কাব্য-গীতির শ্রেষ্ঠ স্রষ্ঠা, দ্রষ্ঠা, ঋষি ও ধ্যানী
কাব্য-গীতির শ্রেষ্ঠ স্রষ্ঠা, দ্রষ্ঠা, ঋষি ও ধ্যানী
মহাকবি রবি অস্ত গিয়াছে!
বীণা, বেণুকা ও বাণী নীরব হইল।
ধুলির ধরণী জানিনা সে কত দিন
রস- যমুনার পরশ পাবেনা।
প্রকৃতি বাণীহীন মৌন বিষাদে কাঁদিবে ভুবনে ভবনে ও বনে একা;
রেখায় রেখায় রুপ দিবে আর কাহার ছন্দ লেখা?
অপ্রাকৃত মদনে মাধবী চাঁদের জ্যোৎস্না দিয়া
রূপায়িত রসায়িত করিবে কে লেখনী, তুলিকা নিয়া?
ব্যাস, বাল্মীকি,কালিদাস, খৈয়াম, হাফিজ ও রুমী
আরবের ইমরুল কায়েস যে ছিলে এক সাথে তুমি!
সকল দেশের সক্ল কালের সকল কবিরে ভাঙ্গি'
তাঁহাদের রুপে রসে রাঙ্গাইয়া, বুঝি কত যুগ জাগি'
তোমারে রচিল রসিক বিধাতা, অপরুপ সে বিলাস,
তব রুপে গুনে ছিল যে পরম সুন্দরের আভাস।
মহাকবি রবি অস্ত গিয়াছে!
বীণা, বেণুকা ও বাণী নীরব হইল।
ধুলির ধরণী জানিনা সে কত দিন
রস- যমুনার পরশ পাবেনা।
প্রকৃতি বাণীহীন মৌন বিষাদে কাঁদিবে ভুবনে ভবনে ও বনে একা;
রেখায় রেখায় রুপ দিবে আর কাহার ছন্দ লেখা?
অপ্রাকৃত মদনে মাধবী চাঁদের জ্যোৎস্না দিয়া
রূপায়িত রসায়িত করিবে কে লেখনী, তুলিকা নিয়া?
ব্যাস, বাল্মীকি,কালিদাস, খৈয়াম, হাফিজ ও রুমী
আরবের ইমরুল কায়েস যে ছিলে এক সাথে তুমি!
সকল দেশের সক্ল কালের সকল কবিরে ভাঙ্গি'
তাঁহাদের রুপে রসে রাঙ্গাইয়া, বুঝি কত যুগ জাগি'
তোমারে রচিল রসিক বিধাতা, অপরুপ সে বিলাস,
তব রুপে গুনে ছিল যে পরম সুন্দরের আভাস।
Subscribe to:
Posts (Atom)